লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৩ August ২০২০

আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহ্নিতকরণপূর্বক উহা সংস্কার

 

প্রকল্পের নামঃ “আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহ্নিতকরণপূর্বক উহা সংস্কার” শীর্ষক প্রকল্প। 

 

মেয়াদকাল

:

মে ২০১৯- এপ্রিল ২০২১

অর্থের উৎস

:

সম্পূর্ণ জিওবি

অনুমোদনের তারিখ

:

৭ মে, ২০১৯

কার্যক্রম শুরুর তারিখ

:

১২ মে, ২০১৯

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ

:

৩০ লক্ষ টাকা

২০১৯-২০ অর্থ বছরে বরাদ্দ

:

৬৪৫ লক্ষ টাকা

মোট ব্যয়

:

৮৯০ লক্ষ টাকা

 

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১৬.বি অর্জন করার জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক আলোচ্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ১৬.বি তে Promote and enforce non- discriminatory laws and policies for sustainable development বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ডিপিপিতে উল্লিখিত প্রকল্পের মুল কার্যক্রম:

 

১। (ক)   গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহ্নিতকরণ।

 

(খ) অনুবাদঃ প্রচলিত আইনে জনগণের অভিগম্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০০টি আইনের অনুবাদ যার মধ্যে ৫৯টি ইংরেজি হতে বাংলায় এবং ৪১টি বাংলা হতে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হবে।

 

(গ) গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমঃ মোট ০৫টি স্টেক হোল্ডার কনসালটেশন।

 

(ঘ) প্রশিক্ষণঃ মোট ০৮টি মডিউলের উপর অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আইনে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণগুলি সম্পন্ন করা হবে।

 

(ঙ) বৈদেশিক প্রশিক্ষণঃ আইন প্রণয়ণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে এরুপ ০৪টি দেশে আইনি ব্যবস্থায় কোনো বৈষম্যমূলক বিধি বিধান রয়েছে কিনা এবং থাকলে বিদ্যমান আইনি বৈষম্য নিরসনে কি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

 

২। অফিস স্থাপন: গত ১২/০৫/১৯ তারিখ এ বিভাগ হতে প্রকল্প কার্যালয় স্থাপনের স্থান বরাদ্দ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। গত ২২/০৫/২০১৯ ইং তারিখে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে বেসরকারি ভবনে ১৯৮৮ বর্গফুট আয়তনের অফিস স্থাপনের অনুমতি পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষিতে, ১৩/১ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচায় বেসরকারি ভবনে ৩য় তলায় ১,৫০০ বর্গফুট আয়তনের বাড়ি মাসিক ৭৫,০০০ (পঁচাত্তর হাজার টাকা) ভাড়ায় প্রকল্প কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

 

জনবল সংক্রান্ত বিবরণি:

জনবল সম্পর্কিত তথ্য নিম্নরুপ:

পদের নাম

মঞ্জুরিকৃত পদ সংখ্যা

নিয়োজিত পদ সংখ্যা

         মন্তব্য

প্রকল্প পরিচালক, গ্রেড-৩

১জন অতিরিক্ত দায়িত্বে

-

উপ প্রকল্প পরিচালক, গ্রেড-৪

 

১জন অতিরিক্ত দায়িত্বে

উপ প্রকল্প পরিচালক-১ জনের পদ শূন্য আছে

সিনিয়র গবেষণা কর্মকর্তা, গ্রেড-৬

১জন অতিরিক্ত দায়িত্বে

পদ শূন্য

প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, গ্রেড-৬

১জন অতিরিক্ত দায়িত্বে

পদ শূন্য

হিসাব রক্ষক, গ্রেড-৯

১জন অতিরিক্ত দায়িত্বে

---

অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার অপারেটর, গ্রেড-১৬

১জন অতিরিক্ত দায়িত্বে

---

অফিস সহায়ক, গ্রেড-২০

১জন অতিরিক্ত দায়িত্বে

---

মোট=

০৮

০৫

০৩

 

৩। প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দের বিবরণীঃ

(লক্ষ টাকায়)

অর্থ-বছর

ডিপিপি অনুযায়ী বরাদ্দ

প্রকৃত বরাদ্দ

মোট

২০১৮-২০১৯

৮৬.৫০

৩০.০০

৩০.০০

২০১৯-২০

৬২৫.৮৩

৬৪৫.০০

৬৪৫.০০

২০২০-২১

১৭৭.৬৭

২১৫.০০

২১৫.০০

মোট=

৮৯০.০০

৮৯০.০০

৮৯০.০০

 

৪। প্রকল্পের ব্যয়: প্রকল্পটি বিলম্বে অনুমোদিত হওয়ায় ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরের বরাদ্দকৃত ৮৬.৫০ লক্ষ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০.০০ লক্ষ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। উক্ত বছরে সন্মানী ভাতা/ফি/পারিশ্রমিক, আপ্যায়ন খরচ, শ্রমিক মজুরি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, অফিস প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার সামগ্রী, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামাদি প্রভৃতি খাতে মোট ১৬.৬৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

 

৫। গবেষণা: লক্ষ্যমাত্রা ১৬.বি অর্জনের লক্ষ্যে এদেশে বিদ্যমান আইনসমূহের মধ্যে কোনো বৈষম্যমূলক বিধি-বিধান রয়েছে কিনা তা চিহ্নিতকরণ একটি ব্যাপকভিত্তিক গবেষণার কাজ। মানসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য ও পর্যাপ্ত যোগ্য জনবল রয়েছে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সুনাম রয়েছে এরূপ প্রতিষ্ঠান দ্বারা গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান দ্বারা গবেষণার পাশাপাশি সভা, আলোচনা বা মতবিনিময়, দেশে ও বিদেশের আইনি দলিল পরীক্ষার মাধ্যমে বৈষম্যমূলক আইন চিহ্নিত করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী কনসালট্যান্ট/ফার্ম কর্তৃক গবেষণাকার্য সম্পন্ন করে প্রাপ্ত ফলাফল পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য সরকারের নিকট উপস্থাপন করা হবে। গবেষণা কাজের দায়িত্ব কোনো একক ফার্ম বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে তা বাস্তবায়ন, মনিটরিং এর মাধ্যমে সুচারুরূপে সম্পন্ন করা দূরহ হবে বিধায় এটিকে ৪টি (চার) প্যাকেজে বিভক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে গবেষণার কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে। প্রকল্প শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস পূর্বে গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন প্রণয়ন করে মূল্যায়নের জন্য জমা দিতে হবে। প্রতিবেদন মূল্যায়নকালে ত্রুটি, বিচ্যুতি, বা কোনো প্রকার অসংগতি ধরা পড়লে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান তা সংশোধন করবে। কনসালট্যান্ট/ফার্ম কর্তৃক গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি কার্যপরিধি প্রস্তুত করা হয়েছে ।

 

গত ৩১/০৮/২০১৯ তারিখে আইনের ২ (দুই)টি প্যাকেজের জন্য গবেষণা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে পেশাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সেবা সংক্রান্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/ফার্মকে আহবান জানিয়ে দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক অবজারভার পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে।

 

৬। অনুবাদ: আইনের অনুবাদ করা হলে জনগণের মাঝে আইনের অভিগম্যতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে জনগণ প্রচলিত আইন এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে ফলশ্রুতিতে বৈষম্য হ্রাস পাবে। অপরদিকে বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্পর্কিত বাংলা ভাষায় প্রণীত আইনসমূহ ইংরেজিতে ভাষান্তর করা হলে তা বিদেশি বিনিয়োগকারীগণকে বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধকরণে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২০০ আইন রয়েছে। যার মধ্যে ২৪৯টি আইন অনুবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এখনও প্রায় ১০০০টি আইন রয়েছে যা ভাষান্তর করা হয়নি। এ পর্যায়ে ১০০টি আইন আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুত্ব বিবেচনায় অনুবাদ করা হবে। উল্লিখিত ১০০টি আইনের মধ্যে ৪১টি আইন বাংলা হতে ইংরেজিতে এবং অপর ৫৯টি আইন ইংরেজি হতে বাংলায় অনুবাদ করা হবে। কেবলমাত্র একজন ব্যক্তিকে বা একক কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুবাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে অনুবাদ কাজটির গুনগত মান নিশ্চিত করে  সঠিক সময়ে তা সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ কারণে অনুবাদের সম্পূর্ণ কাজটি ৪টি ভাগ করে ৪টি অনুবাদকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। 

 

গত ৩১/০৭/২০১৯ তারিখে আইনের ২ (দুই)টি প্যাকেজের জন্য অনুবাদ কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে পেশাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সেবা সংক্রান্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/ফার্মকে আহবান জানিয়ে দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক অবজারভার পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে।

 

৭। লেজিসলেটিভ ডেস্কবুক: আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য লেজিসলেটিভ ডেস্কবুক নেই বিধায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী আইনের খসড়া প্রণয়ন করে থাকে। এ কারণে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এরুপ এক/একাধিক অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট/ফার্ম কর্তৃক সাম্প্রতিক লেজিসলেটিভ গ্রামারসহ একটি লেজিসলেটিভ ডেস্কবুক প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন প্রণয়ন পদ্ধতি এবং আইনের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের আইনের মডেল প্রস্তুতপূর্বক লেজিসলেটিভ ডেস্কবুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে আইনের খসড়া প্রণয়নের সাথে জড়িত কর্মকর্তাগণ অধিকতর দক্ষতার সাথে আইনের খসড়া প্রস্তুত করতে পারবে এবং স্বল্পতম সময়ে আইনের খসড়া প্রস্তুত সম্ভব হবে। শীঘ্রই এতদুদ্দেশ্যে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে।

 

৮। প্রশিক্ষণ: ডিপিপিতে মোট ৮ (আট)টি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত আছে। এ বিভাগের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে “Legislative Process and Technique” শিরোনামে একটি প্রশিক্ষণ ১২/৭/১৯ তারিখে সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে আইন প্রণয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

ডিপিপিতে মোট ৮টি সেমিনার এবং ৫টি স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অনুষ্ঠানের সংকুলান রয়েছে। প্রকল্প কর্তৃক উক্ত সেমিনার ও স্টেক হোল্ডার কনসালটেশনসমূহ পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে।

 

৯। আইনি সচেতনতা সৃষ্টি:  জনগণের মধ্যে ব্যাপক আইনি সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও পোস্টার তৈরি করে বিতরণ করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা দূরীকরণের লক্ষ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু, অবহেলিত মহিলা ও  দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহিত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন করা হবে। স্টেকহোল্ডার কনসালটেশনে আলোচনার মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত শ্রেণির সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হবে। ফলে চিহ্নিত সমস্যা সমাধানের উপায়গুলি আলোচিত হবে। ফলশ্রুতিতে উক্ত জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং উন্নত জীবন সম্পর্কে তাদের মূল্যবোধ সৃষ্টি হবে।

 

১০। ক্রয় পরিকল্পনা:  ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহ্নিতকরণপূর্বক উহা সংস্কার প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত ক্রয় কার্য সম্পাদন করার জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা প্রস্তুতপূর্বক অনুমোদন করা হয়েছে।

 



Share with :

Facebook Facebook